মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে চান ? এই ৫টি গুরুত্বপূর্ন বিষয় মাথায় রাখুন

অনেকেই আছেন যারা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নাম শুনলেই ঘাবড়ে যান। বাজারে হাজারটা মিউচ্যুয়াল ফান্ড পাবেন।কিন্তু কোন মিউচ্যুয়াল ফান্ড আপনার জন্য সেরা বা এক কথায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হবে তা নিয়ে আপনার বিশেষ দক্ষতা নেই।তা ই আপনার কাছে থাকা টাকা আপনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নিবেশ করতে বারবার পিছিয়ে পড়ছেন। এসব ক্ষেত্রে আজকের প্রতিবেদন আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে বলেই ধারণা। কীভাবে নিজের জন্য সেরা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খুঁজবেন আজ তারই উত্তর দেব এই প্রতিবেদনে।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি প্রতিটা মিউচ্যুয়াল ফান্ড স্কিমের ক্ষেত্রেই কিছুটা ঝুঁকি অবশ্যই থাকবে।ভালো রিটার্ন পেতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ঝুঁকি নেওয়ার মতো কিছুটা সাহস দেখাতেই হবে।তবেই তো আপনার গতানুগতিক ব্যাংকের সুদের থেকে বেশি হারে লাভ আশা করতে পারেন এইসব ইনভেস্টমেন্ট থেকে।বাজারে টাকা খাটানোর ক্ষেত্রে অনেক কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হয় ।যেমন মূল্যবৃদ্ধি,রিটার্নের পরিমান,বাজারের স্থায়িত্ব,সুদের হারের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ডের রেটিং।একটি স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক মিউচ্যুয়াল ফান্ড বের করতে হলে আপনাকে মনে রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ন কিছু বিষয়।

বিনিয়োগের লক্ষ্য একটা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আপনার টাকা লাগানোর পূর্বে আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার এই বিনিয়োগ করার পেছনে কী লক্ষ্য আছে। আপনার এই বিনিয়োগের বিভিন্ন লক্ষ্য থাকতে পারে আপনার স্বপ্নের বাড়ি কেনার জন্য টাকা সংগ্রহ করা থেকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা আপনার কর্মজীবনের শেষে উপার্জন করা, সবকিছুই।

প্রত্যেক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেই এই বিনিয়োগের লক্ষ্য থাকে। যা থেকে এর থিম এবং সম্পদ আহরণ ব্যবস্থা বোঝা যায়। আপনার লক্ষ্যের অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ড খুঁজুন। অর্থাৎ বেশি পাওয়ার ইচ্চা থাকলে ঝুঁকিও বেশি নিতে হবে। আপনার কি সেইরকম সামর্থ্য আছে তা আগে দেখুন। আর সবকিছু ভেবে তবেই পছন্দের মিউচ্যুয়াল ফান্ড বেছে নিন।

অতীতের পারফরমেন্স সবসময় যে মিউচুয়াল ফান্ডে আপনি টাকা বিনিয়োগ করলেন, তার অতীত পারফরমেন্স যে ভালো থাকবে তা নাও হতে পারে।তবে এটি একটি লক্ষণ যে কোন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অতীত পারফরমেন্স ভালো হয় তবে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কম ঝুঁকিপূর্ণ হয়।এটা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন অতীতের বাজারের বিভিন্ন অবস্থায় এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবস্থা কেমন ছিল।তবে নিকট অতীতের সঙ্গে না দেখে ৫থেকে ১০ বছরের অতীতের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন আপনার পছন্দের মিউচুয়াল ফান্ড কতটা স্থায়ী রিটার্ন দিয়েছে।

খরচের অনুপাত খরচের অনুপাত হল সেই অনুপাত যা একটি মিউচুয়াল ফান্ড স্কীম কেনার সময় প্রতি ইউনিট থেকে পাওয়া যায় যখন পুরো কেনার খরচকে পুরো বাজারের দাম দিয়ে ভাগ করা হয়।অর্থাৎএক কথায় বলতে গেলে আপনি যখন কিনছেন তখন প্রতি ইউনিটের দাম আর আপনি যখন বাজারে ছেড়ে দেবেন তখন ইউনিট প্রতি তার দামের ভাগফল।এক্ষেত্রে যত কম এই খরচের অনুপাত হবে,তত আপনার লাভের আশা বাড়বে।এছাড়াও আপনাকে জানতে হবে যখন আপনি টাকা বিনিয়োগ করছেন বা কমিশন পাচ্ছেন মিউচুয়াল ফান্ডে তখন কিছু টাকা আপনাকে বিনিয়োগ করার সময় বা বিনিয়োগ পর্ব শেষ হবার পর বেরিয়ে আসার সময় দিতে হয় আপনার মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোম্পানিকে যাকে এন্ট্রি লোড বা এক্সিট লোড বলা হয়।

ভালো বিশ্বস্ত কোম্পানি খোঁজা মিউচুয়াল ফান্ডে ভালো ফল আশা করতে হলে আপনাকে বিশ্বস্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাউস খুঁজতে হবে।যাদের কাছে আপনার টাকার বিনিয়োগের পর সবচাইতে কম ঝুঁকি থাকে ।একটি ভালো ফান্ড হাউসের বাজার সম্বন্ধে ধারণা খুবই স্বচ্ছ থাকবে এবং এই ফান্ড হাউসের এক দক্ষ টিম থাকবে যারা সবসময় বাজারের উপর নজর রাখবে।বহু দিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাউস খুঁজে তাতে বেশি টাকা বিনিয়োগ করলে আপনার টাকার রিটার্ন আসার সম্ভাবনা বাড়ে।

নগদের যোগান আপনি একটি নির্দিষ্ট ফান্ড বেছে নেওয়ার পর আপনাকে মনে রাখতে হবে, কীভাবে এই ফান্ড থেকে আপনার জরুরিকালীন অবস্থায় ফান্ড ভাঙিয়ে নগদ টাকা পেতে পারবেন।সেইজন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড করার আগে ভালো করে পড়ে বুঝে নেবেন কতদিনের মধ্যে আপনি এই ফান্ড ভাঙিয়ে নগদ টাকা পেতে পারবেন।

আপনার স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ড করার ক্ষেত্রে সবসময় এই বিষয় মাথায় রাখবেন ফান্ড গুলি আপনার কর বাঁচাতে সাহায্য করে।আর এক্ষেত্রে আপনার বিনিয়োগ করা টাকার ন্যুনতম বিনিয়োগের সময়কাল ৩ বছর।আবার অনেক ক্ষেত্রেই এই সময়ের তারতম্য দেখা যায়।তাই এইসব জিনিসগুলি মাথায় রেখে বেছে নিন নিজেদের পছন্দের মিউচ্যুয়াল ফান্ড।আর আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।