হার্ট অ্যাটাক রোগীদের ঝুঁকি কমায় অ্যাসপিরিন ওষুধ

কবার হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন, এমন রোগীদের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, অ্যাসপিরিন ওষুধ। তবে বেশ কয়েকটি গবেষণার পর চিকিৎসকরা বলছেন, দ্বিতীয় দফা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমলেও প্রথমবার এই রোগের ঝুঁকি কমাতে তেমন কার্যকর নয় অ্যাসপিরিন। উল্টো বাড়িয়ে দেয় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি।

অ্যাসপিরিন। মাথা আর পেশীর ব্যথা দূর করতে অনেকেই নিয়মিত নেন এই ওষুধ।

চিকিৎসকরা বলছেন, যারা একবার হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে, প্রতিদিন কম মাত্রায় অ্যাসপিরিন কমিয়ে দেয় এসব রোগের ঝুঁকি।

ডা. হোলি অ্যান্ডারসন বলেন, ‘যারা একবার হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের জন্য প্রতিদিন ছোট একটি অ্যাসপিরিন খুব উপকারী। এতে ভবিষ্যতে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমা ছাড়াও আয়ু বাড়ে।’

তবে অ্যাসপিরিন প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক ঠেকাতে সক্ষম কিনা তা নিয়ে চলছে গবেষণা। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজিতে, এ ধরণের তিনটি আলাদা গবেষণার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি, ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের শঙ্কা রয়েছে এমন সাড়ে ১২ হাজার মানুষের উপর করা হয়। তবে এতে অ্যাসপিরিন নেয়ার পক্ষে কোনো ফল আসেনি। গবেষকরা বলছেন, এসব রোগি অ্যাসপিরিন ছাড়াও অন্য ওষুধ নেয়ায় এমনিতেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

ব্রিগহাম এন্ড ওমেন্স হসপিটালের ডা. জে. মাইকেল গাজিয়ানো বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে ঝুঁকি কমতে থাকে। কারন, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এছাড়া নিজেরাও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নেন।’

আরেকটি গবেষনা চালানো হয়, ডায়বেটিকে আক্রান্ত হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা সাড়ে ১৫ হাজার মানুষের উপর। এদের অ্যাসপিরিন ও ওমেগা থ্রি ফিস ওয়েল দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, এসব ওষুধে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমলেও অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যা প্রাণঘাতি। তাই, প্রথমবার নয় বরং, দ্বিতীয় দফা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অ্যাসপিরিন নেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।