গর্ভাবস্থায় সিদ্ধ ডিম- ভালো না খারাপ? জেনেনিন চিকিৎসকের পরামর্শ

ডিম খুব সাধারণ ও সহজলভ্য একটি খাবার। এটি মিষ্টি এবং ঝাল উভয় খাবারে ব্যবহৃত হয়। কেক, কাস্টার্ড, প্যাস্ট্রি ডিশ, বাটার, রুটির মত খাবারগুলোতে ডিম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও, ডিমে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি ৬, ক্যালসিয়াম এবং দস্তা সহ প্রায় প্রতিটি পুষ্টির উপাদান।

ডিম বিভিন্নভাবে রান্না করা হয়। এর মধ্যে সেদ্ধ, স্ক্র্যাম্বলড, পোচড, ভাজা, বেকড, অমলেট, ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। সর্বাধিক পছন্দের এবং স্বাস্থ্যকর হলো সিদ্ধ ডিম। তবে, সিদ্ধ ডিম গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ভাল কিনা অনেকেই জানেন না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক গর্ভবতী মহিলদের জন্য সিদ্ধ ডিম ভালো নাকি খারাপ?

সিদ্ধ ডিমের উপকারিতা:

সিদ্ধ ডিম হলো স্বল্প-ক্যালোরি যুক্ত পুষ্টিকর খাবার। ডিম চর্বিহীন প্রোটিনের খুব ভাল উৎস (একটি ডিমে ৬ গ্রাম)। এতে ভিটামিস বি, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। একটি সিদ্ধ ডিমের কুসুম কোলিনের জন্য অত্যন্ত্য উপকারী। ডিমের কুসুম মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এছাড়াও এতে থাকা লুটেইন এবং জেক্সানথিন চোখের স্বাস্থ্যে ভালো রাখে।

গর্ভবতী মহিলারা কি সিদ্ধ ডিম খেতে পারেন?

ডিম খনিজ, ভিটামিন এবং ভাল ফ্যাট দ্বারা সমৃদ্ধ হওয়ায় গর্ভবতী মহিলারা সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন। গর্ভাবস্থায় সিদ্ধ ডিম খেলে মা এবং শিশুর শরীরে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করবে। গর্ভবতী মহিলারা প্রতিদিন ১-২ টি সিদ্ধ ডিম খেতে পারেন। প্রতিটি ডিমে প্রায় ১৮৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। মানবদেহে দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন হয়। তাই গর্ভবতী মহিলাদের কোলেস্টেরল স্তর বিবেচনা করে সিদ্ধ ডিম খাওয়া উচিত।

গর্ভবতী মহিলাদের সিদ্ধ ডিম খাওয়ার সুবিধা:

ডিম শিশুর বৃদ্ধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন সরবরাহ করে। ডিমে কোলিন থাকে যা মস্তিষ্কের বৃদ্ধি এবং বুদ্ধি বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুকে অনেক রোগ থেকে বাঁচায়।

প্রতিটি ডিমের মধ্যে প্রায় ৭০ রকমের ক্যালোরি থাকে। যা শিশু এবং মায়ের জন্য প্রতিদিনের ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তার একটি অংশ পূরণ করতে সহায়তা করে।

ডিম শরীরে কোলেস্টেরল জমা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, গর্ভবতী মহিলাদের ডিমের সাদা অংশ খাওয়া উচিত। কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় ডিমের কুসুম না খাওয়াই ভালো।

ডিমের মধ্যে চারটি ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন থাকে। বিশেষত ভিটামিন এ যা গর্ভাবস্থায় ফুসফুস, কিডনি, হার্ট, চোখ এবং ভ্রূণের অন্যান্য অঙ্গগুলি সহ গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সাবধানতা:

চিকিৎসকরা কাঁচা বা অ-সিদ্ধ ডিম খাওয়ার পরিবর্তে গর্ভাবস্থায় সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ সিদ্ধ ডিমের মধ্যে কোনও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকে না। ডিম কেনার সময় কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যেমন প্যাকেজিংয়ের তারিখটি পরীক্ষা করা এবং কেবল পরিষ্কার জায়গা থেকে কেনা।bs

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2022 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy