ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত খান একটি করে কলা, তাহলেই মিলবে অনেক উপকার

কলার উপকারিতা অন্যান্য সব খাবারের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। বহুল পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে কলা অতুলনীয় একটি ফল। কলা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় ফল। তবে এটি বেশির ভাগ উষ্ণ জলবায়ু সম্পন্ন দেশগুলোতে জন্মায়। এবং দক্ষিন-পূর্ব এশিয়াই কলার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিগনিত। দেশের সব জায়গাতেই কম বেশি কলার চাষ হয়ে থাকে, তবে নরসিংদী, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, যশোর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ এবং মেহেরপুর এলাকা গুলোতে অনেক বছর ধরে ব্যাপক ভাবে কলার চাষ হয়ে আসছে এবং এখনও হচ্ছে।

কলার উপকারিতা সম্পর্কে অবশ্যই ভালোভাবে জানা দরকার, কারণ এটি শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কলার রয়েছে অসাধারণ উপকারিতা। কারণ এটি বিভিন্ন গুণাগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, আমিষ ও খনিজ পদার্থসহ আরও কিছু উপাদান এবং এটিতে ক্যালরি পাওয়া যাই যতেষ্ট পরিমাণে। প্রতিদিন ১/২ টি কলা খেতে পারলে শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ভালো ফল পাওয়া যায়। অনেক আশ্চর্যজনক উপকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকেও মুক্তি দিয়ে থাকে। এটিতে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা এবং এই শর্করা পরিপাকতন্ত্রকে সহজে হজম করতে সহায়তা করে। আরও যথেষ্ট উপকার করে থাকে, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, পাকা কলা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা।

পাকা কলা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা
০১। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে।
০২। কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
০৩। শরীরে শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।
০৪। খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে।
০৫। ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
০৬। ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
০৭। পাকস্থলির আলসার এবং বুক-জ্বালা রোধ করে।
০৮। মানসিক চাপ কমায় ও সুনিদ্রায় সহায়তা করে।
০৯। শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
১০। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

০১। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে।
আমরা অনেকেই হৃদযন্ত্র ও হার্টের সমস্যায় পড়ি। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে কলা যতেষ্ট ভূমিকা পালন করে। পাকা কলাতে পটাশিয়াম ভরপুর, এছাড়া রয়েছে আরও কিছু কার্যকারী উপাদান। ফলে প্রতিদিন ২/৩ টি ভালো কলা খেতে পারলে হৃদযন্ত্র সুস্থ ও সচল থাকবে। পাশাপাশি হার্ট এট্যাক ও স্টোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। তাই হৃদযন্ত্র ও হার্ট সুস্থ সচল ও ভালো রাখতে চাইলে নিয়মিত কলার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

০২। কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কিডনি বিভিন্ন কারণে অসুস্থ হয়ে যায়। যেমন, নেফ্রাইটিসের কারণে ৪৬ শতাংশ, ডায়াবেটিসের কারণে ৩৮ শতাংশ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে ১১ শতাংশ কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও নানান সমস্যার কারণে কিডনি অসুস্থ হয়ে যায়। কিডনি সুস্থ রাখতে অনেক ধরনের খাবার রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাকা কলা। অর্থাৎ দৈনিক ১/২ টা ভালো ও পরিষ্কার পাকা কলা খেতে পারলে এই সমস্যা অনেকটা দূর করা যাবে। কারণ এটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিনসহ আরও কিছু উপাদান।

০৩। শরীরে শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।
কলার উপকারিতা রয়েছে যথেষ্ট, তবে এটি শক্তি বৃদ্ধি করতে অনন্য ভূমিকা রাখে। শক্তি বৃদ্ধি করতে কলা যতেষ্ট ভূমিকা রাখে। কারণ এটিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ৮৫ মি. গ্রা. ফসফরাস ৫০ মি. গ্রা. আয়রন ০.৬ মি. গ্রা. ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স- ৮মি.গ্রা. মোট ক্যালরি রয়েছে ১১৬। এছাড়াও জল ৭০.১ মি.গ্রা. আমিষ ১.২ মি.গ্রা. ফ্যাট (চর্বি) ০.৩ মি.গ্রা. খনিজ লবণ ০.৮ মি.গ্রা. আঁশ ০.৪ মি.গ্রা. ও শর্করা ৭.২ মি.গ্রা. রয়েছে। যা শরীরে প্রচুর শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। যেকোনো বয়সের মানুষ নিয়মিত পাকা কলা খেতে পারে এবং এতে খুব সহজেই পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চালন করা যায়।

০৪। খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে।
খাদ্য হজম করতে কলা বিশেষ ভূমিকা রাখে। অনেক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভালোমানের পাকা কলাতে এমন কিছু কার্যকারী উপাদান থাকে, যার ফলে খুব সহজেই খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে। কারও যদি হজম সমস্যা থাকে বা খাদ্য হজম করতে কোন সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে নিয়মিত ১/২ টা পাকা কলা খান, কিছুদিন পর দেখবেন এই সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার ও ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে, যেন অন্য কোন সমস্যা না হয়। শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন কলা খেতে শুরু করুন।

০৫। ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ও কলার উপকারিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি কলাও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট সহায়তা করে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষনায় দেখা গেছে, দৈনিক যতেষ্ট পরিমাণে পাকা কলা খেতে পারলে শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ TNF-A নামক এক ধরণের যৌগ সরবরাহ করে, যা শরীরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। আর এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এছাড়াও পাকা কলা খেয়ে অনেকে ধরনের ক্যান্সার থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়। এটি শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অনেক সহায়ক।

০৬। ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
কলাতে প্রায় ৭০.১% জল রয়েছে যা ত্বক সুস্থ, সুন্দর, সতেজ ও কোমল করতে সাহায্য করে থাকে। অল্প বয়সে অনেকের ত্বকে বয়স্ক ছাপ পড়ে যায়, সঠিক ভাবে যত্ন না করলে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ত্বকের সৌন্দর্য, উজ্জ্বলতা যেমন নষ্ট হয় ঠিক বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে যা শরীর স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সরূপ। আপনার চেহারা সুন্দর উজ্জ্বল দেখতে ভালো না দেখালে, অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। তাই অবশ্যই উচিত ত্বকের যত্ন নেওয়া সঠিক ভাবে এবং ত্বক ভালো রাখে এমন সব খাবার খাওয়া। আপেল, পেয়ারার পাশাপাশি ১/২ টি করে কলা খেতে পারেন, ভালো উপকার পাবেন। নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার ফলে আপনার ত্বক সুস্থ ও সতেজ থাকবে।

০৭। পাকস্থলির আলসার এবং বুক-জ্বালা রোধ করে।
অনিয়মিত, অস্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিহীন খাবারের ফলে পাকস্তলির এবং বুক জ্বালা সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবসময় নিয়মিত, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খাওয়া উচিত। এবং তারপরে যাদের নানান কারণে পাকস্থলিতে সমস্যা হয়ে থাকে, তাদের জন্য পাকা কলা অনেক উপকারি হবে। অর্থাৎ পাকা কলা খেলে পাকস্থলি সুস্থ ও পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও কলা পাকস্থলীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে। তাই যারা পাকস্থলির আলসারে ভুগছেন? কিংবা বুক-জ্বালা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না? তাদের উচিত প্রতিদিন কলা খাওয়া। কলা প্রোটেক্টিভ মিউকাস লেয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলিতে পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে, যা বুক-জ্বালা এবং পাকস্থলির আলসার ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

০৮। মানসিক চাপ কমায় ও সুনিদ্রায় সহায়তা করে।
মানসিক চাপ কমাতে ও সুনিদ্রায় সহায়তা করতে কলা আপনাকে অনেক উপকার করবে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যাদের মানসিক চাপ বেশি তাদের উচিত অন্যান্য উপায় অবলম্বনের পাশাপাশি নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া। কারণ এটিতে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো এসিড, যা সেরোটোনিনে পরিবর্তিত হয়। এবং সেরোটোনিনের সঠিক মাত্রা আপনার মুড ঠিক রাখতে সাহায্য করবে যার ফলে মানসিক চাপ কমবে। আর যদি মানসিক চাপ কম থাকে তাহলে ঘুম ভালো হবে এইটাই স্বাভাবিক। তাহলে কেনই বা নিয়মিত কলা খাবেন না। দামে সস্তা ও যেকোনো একালায় পাওয়া যায়।

০৯। রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।
অনেকেরই রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, তার জন্য প্রাথমিক অবস্তায় ডাক্তারের কাছে ছুটাছুটি না করে পাকা কলা খেতে পারেন। কারণ পাকা কলা রক্তস্বল্পতা দূর করতে যতেষ্ট ভূমিকা পালন করে। আয়রনের ঘাটতিতে কিন্তু রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং কলার মধ্যেও রয়েছে পর্যাপ্ত আয়রন। আয়রন শরীরের মধ্যে রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে কাজ করে। অর্থাৎ আপনি যদি প্রতিদিন ১/২ টা ভালো ও পরিষ্কার পাকা কলা ১/২ মাস খেতে পারেন তাহলে রক্তসল্পতার সমস্যার নিরসন ঘটবে।

১০। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
উপরোক্ত কলার উপকারিতা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে, যতেষ্ট পরিমাণে কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করা ছাড়াও নানান ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এই সামান্য একটা খাবার যা আমরা অনেকেই অবহেলা করি, নিয়মিত খায় না, সেটার গুণাগুণ কি পরিমাণ! শরীর সুস্থ, সবল, শক্তিশালী ও উপযুক্ত রাখতে পাকা সবার বিশেষ করে প্রত্যেকটা বাড়তি ছেলে মেয়েদের প্রতিদিন ১/২ টা পাকা কলা খাওয়া আবশ্যক।bs

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2022 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy