বাড়তি বয়সটুকু কমিয়ে তরুণ থাকতে খেতে হবে এই ১২টি খাবার, জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা

প্রতিটি মানুষই চায় বয়স কমিয়ে তরুণ থাকতে। তবে যৌবন বা তারুণ্য ধরে রাখার জন্য শুধু মাত্র শরীর ও ত্বক দেখতে তরুণ দেখালেই হবে না বরং শরীরের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গও তরুণ থাকতে হবে। সঠিক খাবার সঠিকভাবে গ্রহন করার মাধ্যমেই যৌবন ধরে রাখা সম্ভব।

বাজারে এমন অনেক প্রসাধন বা ঔষধ রয়েছে যা ত্বকের তারুণ্য বা যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু এসব সামগ্রীর বেশির ভাগ গুলোতেই রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা ত্বকের জন্য ভালো নয়। এগুলোর অনেক ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও থাকে সেই সাথে অনেক ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা স্থায়ীভাবে তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম।

১. জল: শরীরের সঠিক তারুণ্য ধরে রাখতে প্রচুর জল পান করতে হবে। এই জলের মাধ্যমেই শরীরের আভ্যন্তরীণ সমস্ত অস্বস্থিকর অবস্থা দূর করা সম্ভব। এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং শরীরের স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। জল হচ্ছে আল্লাহ্‌র রহমতপূর্ণ একটি পানীয় যার রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই জল দিয়ে শুরু করতে হবে।

২. সবুজ চাঃ তারুণ্য ধরে রাখতে বহুল প্রশংসিত একটি পানীয় হচ্ছে ভেষজ সবুজ চা। সবুজ চায়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভাঁজহীন ত্বক এবং আভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩. গাঢ় রঙের সবুজ শাক সবজিঃ গাঢ় রঙের সবুজ শাক সবজি খাদ্য আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের শক্তির আধার। এসব খাবার হার্টকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া বেশির ভাগ সবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়াতে বেশি করে সবজি খেলে তা ত্বকে বার্ধক্য আসার গতিকে ধীর করে দেয়। বিশেষ করে সবুজ শাক সবজি যেমন পালং শাকে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বেশি করে সবজি খেতে পারেন এর পুষ্টিগুণের উপর নির্ভর করে সেটা কাঁচাই হোক বা রান্না করেই হোক।

৪. কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিনঃ তারুণ্য ধরে রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে কালো ও লাল সিমের বিচি বা কিডনি বিন। কারন এতে রয়েছে অনেক বেশি পরিমানে খাদ্য আঁশ, পটাসিয়াম এবং প্রোটিন। এসব পুষ্টি উপাদান হার্টকে ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরে খুব ভালো পরিমানে পুষ্টি প্রদান করে।

৫. গাজরঃ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, গাজর ত্বকের জন্য খুবই উপকারি এবং প্রচুর পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। ভিটামিন এ এর একটি শক্তিশালী উৎস হচ্ছে গাজর এবং তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা ত্বকের কোষ বিনষ্টকারী ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গাজর অকালে বলিরেখা পরা থেকে রক্ষা করে।

৬. টমেটোঃ আমরা সাধারণত জানি যে টমেটোতে থাকে লাইকোপিন যা হৃদরোগের সম্ভাবনাকে কমায়। এছাড়া সূর্যের আলোর পোড়া ভাব কমাতে টমেটোর জুড়ি নেই। লাইকোপিন ত্বকের পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ত্বকের কোলাজেনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বককে করে তোলে মসৃণ এবং দাগমুক্ত। টমেটো তে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও।

৭. সয়াবিনঃ বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় এই সবজিটি অনেকে খায় না বা খেতে কেমন লাগবে ভেবে এড়িয়ে চলে কিন্তু প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই সবজিটিতে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থও রয়েছে। এই সবজিকে সুপার ফুড বলা যায় কারন অসুস্থতা এবং রোগের বিরুদ্ধে এর বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। তাই এটি ত্বকের সুস্থতা এবং তারুন্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৮. আপেলঃ কথায় আছে দিনে একটি আপেল ডাক্তার থেকে দূরে রাখে এবং সেই সাথে বার্ধক্য থেকেও দূরে রাখে। আপেলে থাকা পলিফেনল ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে যা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করা ও অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী। এছাড়া আপেলে রয়েছে উচ্চ আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

৯. বেরিঃ বেরি জাতীয় ফল গুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এরা ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরির মত গারো রঙের বেরি ফলগুলো ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা দেয়। এইসব বেরি ফল গুলো ভিটামিন সিতে ভরপুর তাই এগুলো ত্বকের জন্যও ভালো। উচ্চ ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ব্লুবেরি শরীরে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ত্বকের ফোলা ভাব কমায়।

১০. অ্যাভোকাডোঃ এই ফলটি যদিও আমাদের দেশীয় ফল নয় কিন্তু আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে তারুণ্য ধরে রাখার একটি খাবার। উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ই, পটাসিয়াম, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলটি শুধু ত্বক ও শরীরকেই রক্ষা করে না বরং এটি মৃত ও ভগ্ন কোষকে পুনর্গঠনে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি ত্বককে সবসময় সতেজ দেখানোর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

১১. ডার্ক চকলেটঃ চকলেটের নাম দেখে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন কিন্তু সেটা অবশ্যই হতে হবে ডার্ক চকলেট। কোকো প্রোটিন ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি উৎসও যা চুলের গুনগত মান ভালো করে। এই চকলেটটি নিয়মিত খেলে ত্বকের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং এটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তাই এটি ত্বকে বলিরেখা পরতে বাধা দেয়। এছাড়া এটি শরীরের বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

১২. আলু বোখারাঃ আলু বোখারার রয়েছে প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ ও বার্ধক্য বিরোধী গুনাগুন যা সারা বিশ্ব জুড়ে বয়স্ক মানুষের কাছে সমাদৃত। এছাড়া এই ফলটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্য আঁশ এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। তাজা বা শুকনো যেকোনো ভাবেই এটি খাওয়া হোক না কেন এই ফলটি তারুণ্য ধরে রাখার অন্যতম একটি খাবার।bs

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2022 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy