রোজ স্যালাড খাওয়া কি সাস্থের জন্য ভালো? জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলার দিকেই আমাদের ঝোঁক বরাবর বেশি। আর তার জন্য আমরা সবসময় বেশি ক্যালোর বা বেশি ফ্যাটযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিই। কিন্তু এরপর আসে হজমের গোলমাল, এমনকী ওজনও যে সঠিক মাত্রায় কমছে তেমনটাও নয়। তবে ডায়েট শুরু করার আগে সবসময় পুষ্টিবিদ কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর যে কোনও বিশেষজ্ঞই স্যালাডের উপর বেশ জোর দেন। বিশেষত ব্রেকফাস্ট কিংবা দুপুরের খাবারে পাতে স্যালাড রাখার কথা বলা হয়। এর কারণও অবশ্য আছে বেশ কিছু।

মারশুমি ফল ও শাকসব্জিতে থাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিঃ যে ঋতুতে যে ফল বা সব্জি পাওয়া যায় তার পুষ্টিগুণ কিন্তু অনেক বেশি। আর তাই বিদেশি বা প্যাকেটজাত সবজির দিকে না ঝুঁকে দেশি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। মরশুমি ফল, সবজি ভালো ভাবে ধুয়ে খান। আর কিছু ফল যদি কাঁচা খেতে পারেন তাহলে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার। খাদ্যতালিকায় ফাইবার যত থাকবে ততই ভালো। এতে কবে কোলেস্টেরলের পরিমাণ। এছাড়াও পেট পরিষ্কার থাকবে। তাহলে গ্যাস, অম্বল, বদহজমও থাকবে দূরে। চুল, ত্বক ভালো থাকে।

হার্টের সমস্যার সম্ভাবনা কমে। স্যালাডের মধ্যে লেটুস, বাঁধাকপি, গাজর, ক্যাপসিকাম, কড়াইশুঁটি. বিট, গাজর, টমেটো, কর্ন এসব থাকেই। আর ফলের মধ্যে আম, বেদানা, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, ন্যাসপাতি, কমলা লেবু, স্ট্রবেরি, বাতাবি এসব থাকবেই। আর এই ফল, সবজির মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরের ডিটক্সিফিকেশন থেকে ক্যানসার প্রতিরোধ সবেতেই সাহায্য করে স্যালাড। আর স্যালাড খেলে পেট ভরে থাকে, ফলে অন্য খাবারও কম খাওয়া হয়।

স্যালাড কখন খাবেনঃ ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যে যে সময়টা থাকে ওই সময়টা স্যালাড খাওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ ওই সময় স্যালাড খেলে পেট ভরো থাকে। ফলে খুব বেশি মশলাদার খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও থাকে না। আর যদি ডিম বা চিকেন স্যালাড খান তাহলে লাঞ্চ না করলেও চলে। এতে বেশি প্রোটিনও পাওয়া যায়। স্যালাডের উপযুক্ত সময় হল দুপুর বেলা।

তবে স্যালাড বাড়িতেই বানানঃ বাইরের কাটা ফল, রাস্তার সাজানো স্যালাড দেখে লোভ সকলেরই হয়। কিন্তু এই স্যালাড এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। একেবারেই যাতে না খাওয়া যায় সেই চেষ্টা করুন। এমনকী বড় রেস্তোরাঁ, অরগন্যানিক স্যালাড মেনুতে দেখলেও অর্ডার করবেন না। কারণ স্যালাড ফ্রেশ খেতে হয়। আগে থেকে বানিয়ে রাখলে স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও ফল বা সব্জি খুব ভালো করে ধুয়ে তবেই কাটতে হয়। অরগ্যানিক সবজি ব্যবহার করার মস্ত অসুবিধে হচ্ছে যে তাতে যেহেতু সারের ব্যবহার হয় না, তাই তার মধ্যে নানা জীবাণু বাসা বাঁধে। তাই খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তবেই খাওয়া উচিত। ড্রেসিংয়ের মান নিয়েও খুব নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যায় না। বাড়িতে বানিয়ে স্যালাড খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

দ্রুত ওজন কমাতে বানাতে পারেন ডিমের এই স্যালাড যা লাগছেঃ
ডিমের সাদা অংশ ( ২টি ডিম)
সবুজ আপেল-১টা
টমেটো-২টো
অলিভ অয়েল-১ চামচ
নুন
গোলমরিচ গুঁড়ো

যেভাবে বানাবেনঃ ডিম, আপেল, টমেটো চৌকো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। লেটুস পাতা দিতে পারেন। সেই সঙ্গে সিজনিং করুন অলিভ অয়েল, নুন আর গোলমরিচের গুঁড়োতে। প্রতিদিন সকালে একবাটি করে খেলে ওজন কমবেই।bs

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2022 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy